গাজীপুর প্রতিনিধি::ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বানু ও সালেহা নামের দুই বোনের জীবন যেন একই সুতোয় গাঁথা। অভাব আর অবহেলায় জীর্ণ কাপড়ের বেড়া দেওয়া ঘরে এখন তাদের বসবাস। তীব্র পানির সংকটে প্রতিবেশীদের কাছে গিয়েও মেলেনি এক ফোঁটা খাবার পানি। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশের ফিসারি (মাছের খামার) থেকে নোংরা পানি এনে তা পান করছেন ষাটোর্ধ এই দুই নারী। গাজীপুরের এই দুই অসহায় বোনের এমন হৃদয়বিদারক খবর জানতে পেরে তাৎক্ষণিক তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভী। শনিবার (২৭ জুন) গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভী দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে অসহায় দুই বোনের বাড়িতে উপস্থিত হন। তিনি নিজে সরেজমিনে তাদের বসবাসের জীর্ণ দশা এবং মানবেতর জীবনযাপন প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তিনি দুই বোনকে নিজস্ব অর্থায়নে একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং সব সময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন। বিএনপি নেতার এই মহানুভবতায় আবেগাপ্লুত হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানান দুই বোন।ভুক্তভোগী বানু বেগম তার আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যায় ভুগছি। একটু সাহায্যের জন্য এলাকার বড় বড় নেতা থেকে শুরু করে অনেকের কাছে গিয়েছি, হাতে-পায়ে ধরেছি। কিন্তু কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। আজ রিজভী নেতা আমাদের মতো অসহায় মানুষের খোঁজ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। এতে আমি যেমন খুশি হয়েছি, আমার আল্লাহও খুশি হয়েছেন।”অপর বোন সালেহা বেগম তার করুণ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমার জীবনের সমস্ত সঞ্চিত টাকা মেয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস, এখন মেয়ের ঘরের নাতি আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এরপর থেকে এই কাপড়ের বেড়া দেওয়া ঘরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। রাতে শীত-বৃষ্টিতে ঘুমাইতে পারি না। মানুষের বাড়ি থেকে খাবার পানি আনতে গেলে তারাও তাড়িয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে মাছের খামার থেকে পানি এনে খাই। এখন রিজভী নেতা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, আমাদের একটা ভরসা হয়েছে।”এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা ও ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভী বলেন, “আমি লোকমুখে জানতে পারি যে কাপড়ের বেড়া দেওয়া ঘরে ষাটোর্ধ দুইজন নারী অত্যন্ত কষ্টকর ও অমানবিক জীবন যাপন করছেন। আজ নিজে এসে তাদের এই দুর্দশা দেখলাম, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিজস্ব অর্থায়নে অতি দ্রুত তাদের একটি পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর পাশাপাশি তারা যাতে সকল প্রকার সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পান, সে বিষয়েও আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যেকের উচিত সমাজে পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো। রাজনীতি মানেই হলো মানবসেবা। আমি বিশ্বাস করি মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি।অতীতেও আমি সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও যতদিন বেঁচে থাকব, ইনশাআল্লাহ এভাবেই মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা বিএনপি নেতা রিজভীর এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সমাজের বিত্তবানদেরও এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।