বিশেষ প্রতিনিধি, গাজীপুর:: গাজীপুরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও ঐতিহ্যবাহী বনভূমি রক্ষায় জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন ভাওয়াল রেঞ্জের তরুণ ও সাহসী রেঞ্জার মোজাম্মেল। বনের এক ইঞ্চি জমিও যেন অবৈধ দখলদারদের পেটে না যায়, সে লক্ষ্যে তার নেতৃত্বে প্রতিদিন পরিচালিত হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় ভবানীপুর ও বারুইপাড়া বিটে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত একাধিক ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, ঢাকা) সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনায় এবং সহকারী বন সংরক্ষক (গাজীপুর) মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এই বিশাল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ভাওয়াল রেঞ্জের সকল বিটের বিট অফিসার, ফিল্ড স্টাফ এবং জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের অতিরিক্ত স্টাফদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ দল গঠন করা হয়।
রেঞ্জার মোজাম্মেলের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকারী দলটি ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিটের ৩ নম্বর মাহনা ভবানীপুর মৌজার সিএস ১৪০৫ নম্বর দাগে থাবা বসানো দুই অবৈধ দখলদারের ঘর এবং বারুইপাড়া বিটে নির্মিত আরও একটি অবৈধ ঘর ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে বনের জমি দখলের একটি বড় অপচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়। অভিযান শেষে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, বনভূমি জবরদখল প্রতিরোধে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তরুণ রেঞ্জার মোজাম্মেল তার নির্ভীক মনোভাব, অসামান্য সাহসিকতা এবং পেশাগত ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে পুরো এলাকায় এক ইতিবাচক বিপ্লব ঘটিয়েছেন। দখলদারদের হুমকি ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তিনি যেভাবে বনের সুরক্ষায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তা ইতোমধ্যে সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং পরিবেশপ্রেমী সুশীল সমাজের কাছ থেকে কুড়িয়েছেন অকৃত্রিম ভালোবাসা ও তুমুল প্রশংসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতে বনভূমি দখলের পেছনে নানা কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল সক্রিয় থাকলেও রেঞ্জার মোজাম্মেলের যোগদানের পর চিত্র বদলে গেছে। কোনো ধরনের অন্যায় বা প্রলোভনের কাছে তিনি মাথা নত করেন না। তাঁর এই সততা ও কর্মতৎপরতা গাজীপুরের ভাওয়াল বনাঞ্চল সুরক্ষায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ সচেতন মহল মনে করে, মোজাম্মেলের মতো সাহসী ও সৎ কর্মকর্তা বন বিভাগে বেশি করে প্রয়োজন। তার এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ শুধু বনভূমি উদ্ধারই করছে না, বরং ভাওয়াল গড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে।