নিজস্ব প্রতিবেদক:: গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের আকস্মিক বদলির আদেশে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাজীপুরের সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা। তাঁদের মতে, একজন অত্যন্ত সৎ, যোগ্য, দূরদর্শী এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ায় গাজীপুর জেলা পরিষদের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে এবং দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে।
শনিবার গাজীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, নজরুল ইসলাম গাজীপুর জেলা পরিষদে যোগদানের পর থেকেই আমূল পরিবর্তন আসতে শুরু করেছিল। দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা টেন্ডারবাজি ও অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে তিনি জেলা পরিষদে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনেন। তাঁর সুপরিকল্পিত ও দূরদর্শী উদ্যোগের কারণে জেলা পরিষদের রাজস্ব আদায় ও বাজেট পূর্বের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর এই সততা ও কর্মদক্ষতাই যেন এখন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নজরুল ইসলামের এই আকস্মিক বদলির বিষয়ে গাজীপুরের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
সূত্রে জানা যায়, মাত্র সাত মাসের দায়িত্বকালেই ৬০ শতাংশ বাজেট বাড়িয়ে ২৫৭ কোটিতে উন্নীত করেছেন। দূর্বল ১৩ টি ব্যাংক থেকে অর্থ এনে সোনালী ব্যাংকে ৬৫ এবং প্রাইম ব্যাংকে ৬০ কোটি মোট ১১৫ কোটি টাকা জেলা পরিষদের নামে এফডিআর করেন। তাঁর সময়ে জেলা পরিষদের নিজস্ব সম্পদ থেকেই রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয। জেলা পরিষদের জমি উদ্ধারে ৫৩ টি নোটিশের মাধ্যমে কয়েক বিঘা জমি উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুরের একাধিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বললে তাঁরা বলেন, নজরুল ইসলাম গাজীপুরে আসার পর আমরা জেলা পরিষদে একটা বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। তিনি কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে মাথা নত করেননি। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। এমন একজন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর মাধ্যমে সৎ কর্মকর্তাদের ভুল বার্তা দেওয়া হলো।
একইভাবে একাধিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বললে তাঁরা বলেন, আমরা সব সময় প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের দাবি জানিয়ে আসছি। নজরুল ইসলাম সাহেব গাজীপুর জেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পেরেছিলেন। তিনি আসার পর সিন্ডিকেট ভেঙে যাওয়ায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বদলির সুফল ভোগ করবে কেবল সেই দুর্নীতিবাজ চক্রটি, যারা এতদিন কোণঠাসা ছিল। আমরা অবিলম্বে এই গণমুখী কর্মকর্তার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
পাশাপাশি গাজীপুরের পরিবেশ নিয়ে কাজ করা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা রাব্বি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নজরুল ইসলাম একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা। তিনি জেলা পরিষদের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প নিজে সশরীরে তদারকি করতেন এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতেন। তার দূরদর্শী পরিকল্পনায় জেলা পরিষদ যখন আলোর মুখ দেখছিল, ঠিক তখনই তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এতে গাজীপুরের সাধারণ মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব, জনস্বার্থ বিবেচনা করে তাকে এখানেই পুনর্বহাল করা হোক। শুধু সুশীল সমাজই নয়, এই বদলির খবরে স্তব্ধ গাজীপুরের সাধারণ মানুষও। জেলা পরিষদে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে যেখানে যেকোনো কাজের জন্য দালালের দ্বারস্থ হতে হতো বা অতিরিক্ত টাকা গুনতে হতো, নজরুল ইসলামের কঠোর অবস্থানের কারণে তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একজন সৎ কর্মকর্তাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া স্পষ্টতই কোনো মহলের স্বার্থান্বেষী চক্রান্তের অংশ। তারা মনে করেন, এই বদলির ফলে জেলা পরিষদের চলমান মেগা প্রকল্পগুলো ভেস্তে যাবে এবং গাজীপুরবাসী একজন যোগ্য কর্মকর্তা হারালো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও গাজীপুরের সাধারণ নাগরিকরা এই বদলির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সবার একটাই দাবি জনকল্যাণের স্বার্থে এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে নজরুল ইসলামের বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে দ্রুত গাজীপুরেই বহাল রাখা হোক।